
বহু বছর আগে নিভে যাওয়া নক্ষত্রের ‘প্রাণ’ ফিরে পেতে NASA এর চমকপ্রদ আবিষ্কার
NASA‑র সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বহু বছর আগে ‘মৃত’ ঘোষিত নক্ষত্রগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্যাস ও ধুলার আক্রেশন প্রক্রিয়া নক্ষত্রের কেন্দ্রকে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ করে, যা নক্ষত্রের জীবনচক্রে নতুন মোড় নেয়।
কোয়ান্টাম জগতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। NASA‑র ‘স্পেস ডিসকভারি’ প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, বহু বছর আগে তাদের মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া কিছু নক্ষত্র হঠাৎ আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই নক্ষত্রগুলোকে ‘ডেড স্টার’ বা ‘মৃত নক্ষত্র’ বলা হতো, কারণ তারা শেষের দিকে ভেঙে গিয়ে সাদা বোম্ব বা নিউট্রন নক্ষত্রে রূপান্তরিত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি গৃহীত রেডিও ও এক্স‑রে ডেটা দেখায় যে, কিছু নক্ষত্রের গুরূত্বপূর্ণ অংশে আবার জ্বালানি জ্বলে উঠেছে।
এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা ‘অ্যাক্রেশন ডিস্ক’ বা ‘গ্রহাণু বায়ু’ উল্লেখ করছেন। নক্ষত্রের চারপাশের ধূলিকণার গ্যাস ও ধুলো যখন নক্ষত্রে টেনে নেয়, তখন তা তাপ উৎপন্ন করে নক্ষত্রের কেন্দ্রকে পুনরায় জ্বালানির উৎস দেয়। ফলে পুরোনো নক্ষত্রের ‘মৃত্যু’ কেবলই না, নতুন এক স্ফুরণ দেখা দেয়।
এই ঘটনা নক্ষত্রের জীবনের চক্রকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পূর্বে ধরা পড়া ধারণা অনুযায়ী একবার নক্ষত্র ‘মৃত’ হলে তা শাশ্বতভাবে নিস্তেজ থাকে। এখন দেখা যাচ্ছে, মহাবিশ্বের অপ্রত্যাশিত শক্তি কখনো কখনো ‘মৃত’ নক্ষত্রকে আবার ‘জীবন্ত’ করে তুলতে পারে।
NASA‑র টিমের মতে, এই ধরণের পুনর্জীবন প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তাছাড়া, এটি গ্রহাণু ও গ্যালাক্সির গঠন‑সংক্রান্ত তত্ত্বগুলোকে পুনঃবিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
অবশেষে বলা যায়, মহাকাশের এই রহস্যময় ঘটনা আমাদেরকে শেখায় যে, বিজ্ঞান কখনো থেমে না; নতুন তথ্য আমাদের জ্ঞানের সীমানা বাড়িয়ে দেয় এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়।


