উত্তরাখণ্ডে রণক্ষেত্র! গুরুদ্বারা দখল করে দুই ব্যক্তিকে পণবন্দি করলেন নিহঙ্গ শিখরা
national2 দিন আগে২ মিনিট পড়ুন

উত্তরাখণ্ডে রণক্ষেত্র! গুরুদ্বারা দখল করে দুই ব্যক্তিকে পণবন্দি করলেন নিহঙ্গ শিখরা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

উত্তরাখণ্ডের কর্নপ্রয়াগে স্থানীয়দের সঙ্গে বিবাদের জেরে গুরুদ্বারা দখল করে দুই ব্যক্তিকে পণবন্দি করলেন নিহঙ্গ শিখরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে।

উত্তরাখণ্ডের চামোলি ও রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হেমকুণ্ড সাহিব থেকে ফেরা একদল নিহঙ্গ শিখ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। অভিযোগ, বিবাদের জেরে কর্নপ্রয়াগের একটি গুরুদ্বারা দখল করে নিয়েছেন ওই নিহঙ্গ শিখরা এবং সেখানে দুই ব্যক্তিকে পণবন্দি করে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

সূত্রের খবর, হেমকুণ্ড সাহিব যাত্রা থেকে ফেরার পথে যাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ছোটখাটো বিষয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। উত্তেজিত নিহঙ্গ শিখরা স্থানীয়দের ওপর চড়াও হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ উঠেছে যে, নিজেদের দাবি মানতে বাধ্য করতে ওই গুরুদ্বারাটি দখল করে নিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমেছে এবং উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পণবন্দিদের উদ্ধার করতে পুলিশের বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নিহঙ্গ শিখদের কঠোর মনোভাবের কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা দেরি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

উত্তরাখণ্ডের এই পার্বত্য এলাকায় পর্যটন মরসুমের মাঝে এমন অশান্তি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থান দখল এবং সাধারণ মানুষকে পণবন্দি করার মতো ঘটনা এই অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক যাতে সাধারণ জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে না পড়ে।

বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসনের নজর এখন সেই দুই পণবন্দিকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করার দিকে। পাশাপাশি, নিহঙ্গ শিখদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই এই অচলাবস্থা কাটবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি কীভাবে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক বা সামাজিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX