পুজোর এলইডি বিজ্ঞাপনে নতুন নিয়ম, প্রতি বর্গফুটে ৬০০ টাকা কর বসাল কলকাতা পুরসভা
business22 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

পুজোর এলইডি বিজ্ঞাপনে নতুন নিয়ম, প্রতি বর্গফুটে ৬০০ টাকা কর বসাল কলকাতা পুরসভা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

দুর্গাপুজোর মরসুমে অস্থায়ী এলইডি বিজ্ঞাপনের জন্য নতুন কর ঘোষণা করল কলকাতা পুরসভা। প্রতি বর্গফুটে প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে কর দিতে হবে, যা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ব্যবসায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

শারদীয়ার আমেজ শুরু হতেই পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে শহর কলকাতায়। তবে এবার পুজোর মরসুমে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বড়সড় নিয়ম বদল আনল কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা কেএমসি। পুজোর সময় বিভিন্ন মণ্ডপে বা রাস্তার মোড়ে যে অস্থায়ী এলইডি (LED) স্ক্রিন বসিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তার উপর এবার থেকে বিশেষ কর বসানো হয়েছে। পুরসভার নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ধরনের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য প্রতি বর্গফুটে প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে কর দিতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে পুজোর সময় অস্থায়ী বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সাধারণ বিজ্ঞাপনের নিয়ম কার্যকর ছিল। তবে ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের পরিধি ও আয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় পুরসভা এবার নতুন এই পদক্ষেপ নিল। যদিও সাধারণ বা স্ট্যাটিক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে, কিন্তু এলইডি স্ক্রিনের ক্ষেত্রে করের এই হার পুজো কমিটি এবং বিজ্ঞাপন সংস্থা দু-পক্ষের জন্যই একটি বড় পরিবর্তন।

পুরসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে পুজোর বাজেটে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি পুজোর কমিটিগুলো, যারা এলইডি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে, তাদের ক্ষেত্রে এই করের বোঝা কিছুটা চাপের হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে পুরসভার দাবি, শহরের সৌন্দর্য রক্ষা এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের সঠিক নিয়ন্ত্রণ আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও এই নতুন নিয়মটি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। প্রতিদিনের হিসেবে এই করের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি হওয়ায় অনেক সংস্থা তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। তবে উৎসবের মরসুমে চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞাপনদাতারা এই খরচ বহন করবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধন্দ রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, কলকাতা পুরসভার এই সিদ্ধান্তে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাণিজ্যিকীকরণ আরও নিয়মতান্ত্রিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উৎসবের আনন্দ বজায় রেখে কীভাবে এই নতুন কর ব্যবস্থা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। একদিকে যেমন শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নে এই অর্থ কাজে লাগবে, তেমনই পুজোর আয়োজনে এর প্রভাব কতটা পড়ে, তা সময়ই বলে দেবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX